সালাম নিবেন? কেমন আছেন?

আজকের মার্কেট অপরিবর্তিত শেয়ারের সংখ্যা ২৩০টি গেইনার সংখ্যা ২৭টি লোজারের সংখ্যা ৭০টি। লেনদেন হয়েছে ১৯৭কোটি টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে ছিলো SQURPHARMA, BXPHARMA, GP, BEXIMCO, IBP, SILVAPHL, MONNOCERA, ORIONPHARM, CENTRALPHL, BSCCL, SUMITPOWER, ACI, LINDEBD, SILCOPHL, EXIMBANK, RECKITTBEN,SPCL, FARCHEM, ORIONINFU, MERCANBANK

stock market forcust

গেইনার লিস্টে ছিলো

PHOENIXFIN, DSHGARME, BXPHARMA, PF1STMF, PARAMOUNT, MEGHNACEM, BSCCL, IBP, HFL, ACIFORMULA

লোজারের শীর্ষে ছিলো

  1. MITHUNKNIT,
  2. NATLIFEINS,
  3. MEGHNALIFE,
  4. MERCANBANK,
  5. UCB,
  6. SQURPHARMA,
  7. NCCBANK,
  8. ABBANK,
  9. MATINSPINN

la5

গতকাল মার্কেট ৫৩পয়েন্ট পজিটিভ ছিলো আর আজকে ৬০পয়েন্ট নেগেটিভ। কিন্তু লেনদেন গতকালের চেয়ে আজকে বেড়েছে যা টেকনিক্যালি নেগেটিভ বার্তা বহন করে। অন্যদিকে গতকাল ফার্মা সেক্টর রাজত্ব করলেও আজকে তা ধরে রাখতে পারে নাই। ধারণা করছি ফার্মা সেক্টর এখন থেকে স্ক্রিপ্ট ওয়াইজ মুভমেন্টে চলে যাবে। সোজা কথা একক কোন সেক্টর টানা ভালো করবে না। আজকে আমাদের রেজিস্টার্ড ফলোয়ারদের এ সি আই ফরমোলা সেল করিয়েছি টি২তে ১৬% প্রফিটে। টি২ মানে কি প্রশ্ন আসছে? আসাটাই স্বাভাবিক বন্ধের আগের দিন বাই করিয়েছিলাম যা আজকে সেল করেছি। মার্কেট চালু অবস্থায় থাকে টি২ ই বলে।

একটা প্রশ্ন হয়ত আজকে ৬০ পয়েন্ট কমা দেখে অনেকের মনেই জন্ম হয়েছে ইনডেক্সের ফ্লোর প্রাইজ কত?

উত্তর- ইনডেক্সের উপর কোন প্রকার ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারণ করা হয় নাই। ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারণ করা হয়েছে শুধু মাত্র স্টকগুলার উপর। ইনডেক্সের উপর করা হয়েছে ডাবল ট্রেকার। মানে যখনই ইনডেক্স ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারণের পূর্বের দিনের ক্লোজ প্রাইজের নিচে চলে যাবে তখন এই ডাবল ট্রেকার ইনডেক্স এক্টিভ হবে। সোজা কথায় মার্কেট কমতে না দেওয়ার জন্য যত ধরনের অবৈধ কাজ আছে তা আইনের মাধ্যমে বৈধ করেই করা হবে। তাই এই মুহূর্তে মার্কেট নিয়ে চিন্তা করার দরকার। যেগুলা ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে তাদের গড়াগড়ি করতে দিন। মার্কেট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। তাই ঐ সকল করোনা আক্রান্ত শেয়ারের দিকে না থাকানোই ভাল। যেগুলা এখনো ফ্লোরের উপরে আছে মানে করোনা আক্রান্ত না সেগুলার দিকে নজর রাখেন ঝুপ বুঝে কুপ মারেন।

কোন স্টকের ফ্লোর প্রাইজ দেখার প্রয়োজন হলে লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিন।

সবাই ভাল থাকেবন, আল্লাহ হাফেজ।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাওয়া, পরা, চাকরি, ব্যবসার মতো আর দশটা সাধারণ নৈমিত্তিক বিষয়ের মতো করোনা ভাইরাসও ধীরে ধীরে সাধারণ হয়ে উঠছে। এটি এখন আমাদের নিত্ত দিনের সঙ্গী। করোনা ভাইরাস, এই ভাইরাসে সংক্রমণ, সুস্থ হয়ে ওঠা অথবা মারা যাওয়া- এর সবই আমাদের প্রতিদিনের আলাপ। এটি এখন এমন এক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে যেটাকে আমরা অস্বীকার করতে পারবো না। করোনার সাথেই আমাদের জীবনযাপন।

খেয়াল করে দেখেন করোনা আমাদের চিন্তা-ভাবনায় কিছুটা হলেও পরিবর্তন এনেছে। আমরা স্বাস্থ্য নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, আমরা খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও মিতব্যয়ী, আমরা সঞ্চয়ে মনোযোগী, আমাদের চারপাশের মানুষের জীবন, নিরাপত্তা নিয়েও আমরা এখন সংবেদনশীল। তবে সব পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আমাদের কর্মক্ষেত্রে আর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে। বাংলাদেশের মানুষ ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে অফিসের কাজ করার সাথে এখন ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়েছে। এই তো, কিছুদিন আগেও বাসা থেকে যে অফিসের কাজ করা যায় সেটা অনেকে ভাবতেই পারতেন না! এছাড়াও অনলাইন শপিং, অন লাইন ব্যবসা, মানি ট্রান্সফার ইত্যাদির প্রসার ঘটছে। সহজ কথায় বলতে গেলে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার ও নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তবে এটা যে শুধু বাংলাদেশে ঘটছে সেটা কিন্তু না। পুরো বিশ্বেই কাজের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে করোনা ভাইরাস দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে আরো বেগবান করছে। আর এই শিল্প বিপ্লবের বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার কমিয়ে আনা। এর ফলে অনেকেই তাদের কাজ হারাবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কী? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেনোম এডিটিং, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, রোবোটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস ও থ্রিডি প্রিন্টিং হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জীবনের সব দিককে আমূল বদলে দেবে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। আগের তিনটি শিল্প বিপ্লব থেকে এটা অনেকটাই আলাদা। কারণ এই শিল্প বিপ্লবের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষ নির্ভরতা থেকে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার নির্ভরতার দিকে যাত্রা। এর ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কিছু অর্থ বিনিয়োগ করে আমাদের কাজগুলো ডিজিটাইজ করা হবে। ফলে মানুষের ব্যবহার কমে আসবে। অর্থনীতিবিদরা এটাকে ‘শ্রমনিবিড় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড থেকে পুঁজিনিবিড় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থানান্তর’ হিসেবে অভিহিত করছেন। সোজা কথায় অনেক মানুষ কাজ হারাবে, বেকার হয়ে পড়বে। এটাই অর্থনীতিবিদদের প্রধান চিন্তার বিষয়। এই কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান, তাদের জীবন সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন হলো করোনা ভাইরাস কীভাবে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করছে। প্রথমত, অনেক মানুষ ইতিমধ্যেই মারা গেছে। সামনে আরো কত মারা যাবে তার ঠিক নাই। এই ভাইরাসের কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা  এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। উন্নত দেশগুলোতেই এই মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে। সেসব দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি। ফলে তারা অনেক অর্থনৈতিক কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পাবে না। তাদেরকে রোবট বা এই ধরনের প্রযুক্তিই ব্যবহার করতে হবে। সেসব দেশ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছে তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বড় ধাক্কাটা সেখানেই আগে আসবে।

দ্বিতীয়ত, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, ঘরের বাইরে বেশি না যাওয়া ইত্যাদিকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ফলে একেকটি ঘর হয়ে উঠছে একেকটি অফিস। আর যে বাসায় পরিবারের একেক সদস্য একেক অফিসে কাজ করেন সেই বাসাগুলোতে যেন ‘একটি ঘর একাধিক অফিস’! এখন কর্মীদের বাসায় রেখেই যে অফিসের কাজ চালানো সম্ভব সেটা কর্তাব্যক্তিরা খুব ভালোভাবে বুঝছেন। ফলে সামনের দিনগুলোতে তারা চিন্তা করবেন যে এত বড় অফিস চালাতে গেলে খরচ অনেক। আর ছোট একটা অফিস নিয়ে যেই কাজগুলোকে দূর থেকে করা সম্ভব সেই কাজগুলোর কর্মীদের হোম অফিস দিয়ে দিলেই খরচ অনেক কমে যাবে। আর হোম অফিস করা কর্মীদের বেতন কমিয়ে দিলেও তারা খুশি থাকবে কারণ অফিসে যাতায়াত খরচ আর ঝক্কি-ঝামেলা থেকে তো বাঁচা যাবে।

তৃতীয়ত, সামান্য প্রযুক্তির ব্যবহারই অনেক পেশাকে অপ্রয়োজনীয় করে দিতে পারে। ছোটবেলায় আমরা অনেকেই ‘ডাক পিয়ন’ দেখেছি। এখন আর তারা নেই। টিএন্ডটি-এর লাইনম্যানের গুরুত্ব আর প্রয়োজনীয়তা একরকম শেষ করে দিয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার। কিছুদিন আগেও অনেক এলাকার বিদ্যুতের মিটার রিডাররা দাপিয়ে বেড়াত। এখন তাদের আমরা ভুলতে বসেছি। এভাবে অনেক পেশাই একসময় হয়ে যাবে ইতিহাস!

চতুর্থত, প্রযুক্তির অধিক ব্যবহারে অভ্যস্ত ম্যানেজমেন্ট যখন তার কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটের সন্ধান পাবে তখন সে দ্রুত এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করবে। তখন অনেক মানুষ বেকার হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে মানুষের অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমি বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা সবাই নতুন প্রজন্মের আর দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করেছে। আমি তাদের বলেছি, তোমার পেশাটা তো ইতিহাস হয়ে যাবে, তোমার কাজ রোবট দিয়ে করা সম্ভব! মজার বিষয় হলো, এই কথার জবাবে তারা সবাই বলেছে যে তাদের কাজটা রোবট দিয়ে বা সফটওয়্যার দিয়ে করানো সম্ভব না! এরপর আমি তাদের কাজটা কিভাবে সফটওয়্যার বা রোবট দিয়ে করানো যায় সেটা কিছুটা বলার পর তারা বেশ চিন্তিত হলো কিন্তু নিজেদের প্রথম অবস্থানে তারা অনড়- তাদের চাকরি যাবে না! শিক্ষিত মানুষদেরও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বা খাটো করে দেখাকেই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিপদ বলে মনে হয়েছে। কারণ এর ফলে মানুষ জীবনের সম্ভাব্য পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় না। ফলে হঠাৎ যখন পরিবর্তনটা আসবে তখন এই দলের মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে। পরিবর্তনের সাথে তাল মিলাতে না পেরে অনেকেই তখন ঝরে যায়। সোজা কথায় অনেকেই চাকরি হারাবে। সেই সাথে নতুন বা অন্য কোনো কাজও তারা করতে পারবে না। তাই সময় থাকতে ভাবুন, চাকরি থাকবে তো?

Need Help? Chat with us